পোশাক শ্রমিকদের মজুরি কত হবে, পরবর্তী সভায় জানাবেন মালিক ও শ্রমিকপক্ষ
তৈরি পোশাক শ্রমিকদের নতুন ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে আগামী সভায় মালিকপক্ষ ও শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধিরা প্রস্তাবিত মজুরি কাঠামো জমা দেবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন ন্যূনতম মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ আজাদ সুবহানী।
বুধবার (৪ নভেম্বর) মজুরি বোর্ডের প্রথম সভা শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, পরবর্তী সভায় উভয়পক্ষের প্রস্তাব পাওয়ার পর সেগুলো পর্যালোচনা করে মজুরি নির্ধারণের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।
গত ১ নভেম্বর তৈরি পোশাক শিল্পে শ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণে ৬ সদস্যের ‘নিম্নতম মজুরি বোর্ড’ গঠন করে সরকার। আজ বোর্ডের চেয়ারম্যান জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ আজাদ সুবহানীর সভাপতিত্বে বোর্ডের প্রথম সভা হয়।
সৈয়দ আজাদ সুবহানী বলেন, আজকের সভায় আমরা ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের আইনগত প্রক্রিয়া, পদ্ধতি এবং এ বিষয়ে বোর্ডের প্রত্যেক সদস্যের করণীয় সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে অবহিত হয়েছি। আইন অনুযায়ী আমাদের যে দায়িত্ব ও কার্যপদ্ধতি রয়েছে, সে অনুযায়ী আমরা কাজ এগিয়ে নিচ্ছি। আমি দৃঢ়ভাবে বলতে চাই, আগামী সভা থেকেই তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের লক্ষ্যে সুপারিশ প্রণয়নের কাজে আমরা উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করতে পারবো বলে আশা করছি।
তিনি বলেন, আজকের সভায় এই শিল্প খাতের শ্রমিক ও মালিকপক্ষের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তাদের অভিজ্ঞতালব্ধ ও জ্ঞানগর্ভ আলোচনা আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আমরা আশা করছি, পরবর্তী সভায় উভয়পক্ষ তাদের লিখিত মতামত, প্রস্তাব ও সুপারিশ আমাদের কাছে উপস্থাপন করবেন।
সৈয়দ আজাদ সুবহানী আরও বলেন, এ লক্ষ্যে আমরা খুব শিগগির পরবর্তী সভা আহ্বান করবো। তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের বিষয়ে সব পক্ষের মতামত ও প্রস্তাব পর্যালোচনা করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরকারের কাছে সুপারিশ প্রণয়ন ও জমা দিতে পারবো বলে আমার প্রত্যাশা ও বিশ্বাস।
এদিকে শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি বাবুল আক্তার এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, আজকের ন্যূনতম মজুরি বোর্ডের সভায় মালিকপক্ষ একমত হয়েছেন যে, নতুন ন্যূনতম মজুরি আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হবে এবং শ্রমিকরা জানুয়ারি মাসের বেতনের সঙ্গে নতুন মজুরি পাবেন।
তিনি বলেন, বোর্ডের চেয়ারম্যান আমাদের পরবর্তী সভার আগে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে মজুরি কাঠামো বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব প্রস্তুতের নির্দেশনা দিয়েছেন।
বাবুল বলেন, আমি সব শ্রমিক সংগঠন ও ফেডারেশনের প্রতি আহ্বান জানাবো, আপনারা ঐক্যবদ্ধভাবে আলোচনা করে একটি যৌক্তিক ও বাস্তবসম্মত মজুরি প্রস্তাব তৈরি করুন এবং আগামী সভায় বোর্ডে উপস্থাপন করুন।
তিনি আরও বলেন, সভায় আমরা নিরপেক্ষ সদস্যকেও অনুরোধ করেছি, তিনি যেন মালিক ও শ্রমিকপক্ষের বাইরে থেকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে শ্রমিকদের জন্য যৌক্তিক ন্যূনতম মজুরি কত হওয়া উচিত, সে বিষয়ে একটি স্বতন্ত্র প্রস্তাব জমা দেন।
শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি বাবুল বলেন, শ্রমিকপক্ষ, মালিকপক্ষ ও নিরপেক্ষ সদস্যের প্রস্তাব পর্যালোচনা করে বোর্ড সুপারিশ তৈরি করবে। সেই সুপারিশ শ্রম মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে এবং সরকার পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে। আমরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে একটি গ্রহণযোগ্য সুপারিশ প্রণয়নের প্রত্যাশা করছি।
তৈরি পোশাকশ্রমিকদের এন্ট্রি-লেভেলের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন শ্রমিকরা। বর্তমানে ২০২৩ সালের মজুরি কাঠামো অনুযায়ী তাদের ন্যূনতম মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা।

অনলাইন ডেস্ক